ভাবনা
স্যাপিওসেক্সুয়ালিটি — যেখানে আকর্ষণ জন্মায় বুদ্ধিমত্তায়
শ্যামল সামন্তভালোবাসা কি কেবল চোখে দেখার বস্তু? না—ভালোবাসার গভীরতম রূপটা অনুভব করা যায় মনের আয়নায়, চিন্তার জগতে। কেউ কেউ আছেন, যাঁদের কাছে মানুষের সৌন্দর্য মাপা হয় চেহারায় নয়, বরং মস্তিষ্কের জ্যোতিতে। কারো যুক্তি, চিন্তার গভীরতা, কবিতা বোঝার ক্ষমতা, কথায় সূক্ষ্ম ব্যঞ্জনা ধরার মেধা—এই সবকিছুর প্রতি আকর্ষণ থেকেই এক বিশেষ ধরনের ভালোলাগা জন্ম নেয়। এই মানসিক এবং বুদ্ধিবৃত্তিক আকর্ষণকেই বলে স্যাপিওসেক্সুয়ালিটি ।(Sapiosexuality) - শব্দটি এসেছে Latin শব্দ “ sepiens “ ( অর্থাৎ বুদ্ধিমান ) থেকে , যার মানে হচ্ছে যে ব্যক্তি বুদ্ধিমত্তার প্রতি আকৃষ্ট । যাদের কাছে মস্তিষ্কই হচ্ছে প্রধান যৌন অঙ্গ - আর বুদ্ধির গভীরতা তাদের উত্তেজিত করে ।
কারা হন স্যাপিওসেক্সুয়াল? যাঁরা প্রেমে পড়েন কারও — • ভাবনার গভীরতায় • যুক্তির শানিত আলোয় • সাহিত্য বা দর্শনের অন্তর্নিহিত উপলব্ধিতে তাঁরা শারীরিক সৌন্দর্যের চেয়ে চেতনার সৌন্দর্য খোঁজেন। তাঁদের প্রেম চেহারায় নয়, জন্মায় মস্তিষ্ক আর অন্তর্দৃষ্টি-র আলোয়।
আমার ব্যক্তিগত অনুভব… আমি নিজে হয়তো নিজের নামের পাশে ‘স্যাপিওসেক্সুয়াল’ শব্দটা বসাতে দ্বিধা করি, তবে এটা ঠিক— আমি গভীরভাবে আকৃষ্ট হই তাঁদের প্রতি, যাঁরা কবিতা বা সাহিত্য ভালোবাসেন, যাঁরা কবিতার প্রতিটি শব্দের গভীরতা বুঝতে পারেন, যাঁদের ভাবনা ধারালো, যুক্তিসংগত এবং অন্তর থেকে উৎসারিত। আমি মুগ্ধ হই এমন মানুষের প্রতি, যাঁদের চিন্তায় থাকে এক ধরনের আলোকচ্ছটা — যা চোখে দেখা যায় না, কিন্তু হৃদয়ে অনুরণন তোলে।
ভালোবাসার নতুন সংজ্ঞা আজকের এই চেহারা-নির্ভর যুগে, স্যাপিওসেক্সুয়াল ভালোবাসা যেন এক নতুন ধরণের বিপ্লব — যেখানে চেহারা নয়, চিন্তাই প্রথম আকর্ষণ। যেখানে শরীর নয়, বোধ-এর গভীরতা দিয়েই গড়ে ওঠে সংযোগ। -:- -:- -:- আপনি কি কখনো এমন কারো প্রতি আকৃষ্ট হয়েছেন, যাঁর কথা শুনলেই মনে হয়েছে— “এই মানুষটার সঙ্গে শুধু সময় নয়, জ্ঞান ও বোধ ভাগ করে নিতে চাই?” তাহলে আপনিও হয়তো, অজান্তেই, মন ও মস্তিষ্কের যুগলতানে প্রেমে পড়েছেন একটি স্যাপিওসেক্সুয়াল হৃদয়ের মতোই।