মূল পাতায় যান
খোলা বইয়ে ফিরুন

প্রবন্ধ

উপনিষদ — ব্রহ্মবিদ্যার আধার পর্ব ১

Shyamal Samanta

- : উপনিষদ - ব্রহ্মবিদ্যার আধার :- ( লেখায় - শ্যামল সামন্ত ) ছোট বেলায় আমরা পড়েছি ১ এ চন্দ্র, ২ এ পক্ষ, ৩ এ নেত্র, ৪ এ চতুর্বেদ ইত্যাদি ইত্যাদি । সবকিছুই শিখেছি মুখস্ত করে কিন্তু বিচার করতে শিখি নাই । তাই আমরা ডিগ্রী পাইয়াছি কিন্তু জ্ঞান অর্জ্জন কিছুই হয় নাই । ছোটবেলায় পূজা অর্চনার সময় দাদু ঠাকুরমার ও অন্যান্য গুরুজনদের বলতে শুনিয়াছি - এসব শাস্ত্রের কথা একটু বাচ-বিচার করতে শেখ , একটু মানতে শেখ । শাস্ত্র বলতে আমরা তখন রামায়ন, মহাভারত ও গীতার কথা শুনিয়াছি । ৪ এ চতুর্বেদ , ঋক, সাম, যজু ও অথর্ব শুধুমাত্র পড়িয়াছি কিন্তু বেদ কখনও চোখে দেখি নাই । কোনও লাইব্রেরি বা কোনও বন্ধু বান্ধবের বাড়ীতেও আছে কিনা কাউকে বলতে শুনি নাই । অর্থাৎ বেদ সম্পর্কিত প্রামান্য গ্রন্থের অভাব। এই কারণে ইচ্ছা থাকলেও আমরা বেদ বা উপনিষদ সন্মন্ধে কিছু জানতে পারিনা । পরে আমার পূজ্যপাদ দীক্ষা-গুরুর সংস্পর্শে অনেক কিছু জানিতে পারিয়াছি এবং জ্ঞান-পিপাসু মনের জিজ্ঞাসাকে শান্ত করার জন্য কিছু কিছু বই সংগ্রহ করিয়া ঐসকল গ্রন্থের মধ্যে কি সম্পদ লুকানো আছে তাহা বুঝিবার চেষ্টা করিয়াছি । উপনিষদ বৈদিক সাহিত্যেরই অন্তর্গত । উপনিষদ হইলো বেদের জ্ঞান-কান্ড । বেদের শেষ অংশে এই জ্ঞান-কান্ড আছে বলে উপনিষদের আর এক নাম বেদান্ত । উপনিষদ শব্দের অর্থ , গুরুর সন্মুখে উপবিষ্ঠ হইয়া অর্থাৎ গুরুর পদপ্রান্তে উপবেশন করে বিদ্যার্থী ব্রহ্মবিদ্যা গ্রহণ করতেন, তাই বলা হয় উপনিষদ । উপনিষদের আর একটি অর্থ 'রহস্য' । অতি দুর্লভ ও গোপনীয় ব্রহ্মবিদ্যা গুরু সকল শিষ্যকে নির্বিচারে দান করতেন না, বিচার করে প্রকৃত অধিকারীকেই কেবলমাত্র দেওয়া হোত, সেই অর্থে ইহা রহস্য । ক্রমশ :

Facebook-এ প্রকাশ · ১৮ আগস্ট, ২০২২2022-08-18