মূল পাতায় যান
খোলা বইয়ে ফিরুন

প্রবন্ধ

আন্তর্জাতিক রবীন্দ্রকাব্যপাঠ দিবস

Shyamal Samanta

" 30 শে জুন আন্তর্জাতিক রবীন্দ্রকাব্যপাঠ দিবস " - -:- ইহার নেপথ্য কাহিনী -:- 1912 সালের শুরুর দিকে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার গীতাঞ্জলি ও অন্যান্য কাব্যের ইংরাজি অনুবাদে হাত দেন ও অবশেষে তিনি মে মাসে তৃতীয় বারের মতো জাহাজে করে ইংল্যান্ডে যাত্রা করেন । 16 ই জুন 1912 তিনি সেখানে পৌঁছান এবং তার গীতাঞ্জলীর অনুবাদের একটি কপি William Rothenstien (A British painter, Printmaker, Draughtsman, Lecturer & Writer on Art ) এর হাতে তুলে দেন । Rothenstien ঐ অনুবাদের তিনটি টাইপ করা কপি ততকালীন তিন বিখ্যাত মনীষী W B Yeats ( A great Irish poet and former Senator of Irish free state ) , স্টপফোর্ড ব্রুক ও এন্ডরু ব্র্যডলি কে পাঠান । তিনজনেই রবীন্দ্রনাথের কবিতাগুলির উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন । 30 শে জুন 1912 Rothenstien এর গৃহে এক বিশিষ্ট শ্রোতৃমন্ডলীর সন্মুখে W B Yeats ঐ কবিতাগুলির কয়েকটি পাঠ করে শোনান । এটাই ইংল্যান্ডের বিদ্বসমাজে কবিগুরুর প্রথম আত্মপ্রকাশ এবং চলতে থাকে অভিনন্দন, সংবর্ধনা ও শ্রদ্ধার্ঘ্য প্রদান । এরপর 1st নভেম্বর 1912 প্রকাশিত হয় গীতাঞ্জলীর English version এর সীমিত সংস্করণ । প্রকাশ করেন লন্ডনের ইন্ডিয়া সোসাইটি । এরপর 1st মার্চ 1913 প্রকাশিত হয় গীতাঞ্জলীর English version এর সুলভ সংস্করণ । তার পরের ইতিহাস সবার জানা । সেই ঐতিহাসিক দিন । 12 নভেম্বর 1913 স্টকহম থেকে আসে কবিগুরুর নোবেল পুরস্কারের প্রাপ্তি সংবাদ । সুতরাং 30 শে জুন 1912 William Rothenstien এর গৃহে রবীন্দ্রকাব্য পাঠের যে অনুষ্ঠান সংগঠিত হয়েছিল এবং এটাই যে কবিগুরুর নোবেল প্রাপ্তির প্রথম পদক্ষেপ, তাই এই ঘটনাটিকে মনে রাখার জন্য Tagore Research Institute প্রতি বৎসর 30 শে জুন দিনটিকে " আন্তর্জাতিক রবীন্দ্রকাব্যপাঠ দিবস" হিসাবে পালন করে আসছে । আমরা বাঙালীরা যদি Tagore Research Institute এর মতো প্রতিটি স্কুল, কলেজ, লাইব্রেরী এবং যে কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে 25 শে বৈশাখের মতো রবীন্দ্রকাব্য পাঠের একটা অনুষ্ঠান পালন করতে পারি তবেই কবিগুরুর নোবেলপ্রাপ্তিকে আরও বিশেষ ভাবে সম্মান জানাতে পারবো । ( তথ্যানুসন্ধান গ্রন্থ - খ্যাতি অখ্যাতির নেপথ্যে, লেখক - শ্রী সৌরিন্দ্র মিত্র )

Facebook-এ প্রকাশ · ৫ জুলাই, ২০২৩2023-07-05