প্রবন্ধ
পূজা সম্পর্কে আমার একান্ত ও নিজস্ব অনুভুতি
Shyamal Samanta-: পূজা সম্পর্কে আমার একান্ত ও নিজস্ব অনুভুতি :- ( লেখায় - শ্যামল সামন্ত ) ( পর্ব -৩ অন্তিম পর্ব ) আমরা যারা মাতা স্বরস্বতীর পূজা করি, মাতা দুর্গার বা মা কালীর বা যে কোন অন্যান্য দেব দেবীর পূজা করি , প্রত্যেকটি পূজা আমরা অত্যন্ত শ্রদ্ধা ভক্তির সাথেই করি, কারণ প্রতিটি পূজার পিছনেই একটি আর্থসামাজিক কারণ আছে, কিছুটা সংস্কার আছে, একটু শ্রদ্ধা মিশানো ভয় আছে, আর আছে নিজেকে ভালো রাখার বা ভালো থাকার একটা ব্যাকুল বাসনা এবং একটা বিশ্বাস যে আমাদের উপাস্য দেব দেবীরা আমাদের ভালো করবেন এবং পূজা ঠিকভাবে না করলে উনি রুষ্ঠ হবেন । যে ভাবেই হোক ভক্তি ভাব থেকেই হোক, ভয় থেকেই হোক আর নিজেদের স্বার্থ ভাব থেকেই হোক, পূজা করতে করতে ঈশ্বরের উপর একটা ভক্তির ভাব আমাদের মনে সঞ্চারিত হতে থাকে যা কালে সাধন-প্রেমে উন্নিত হতে থাকে । আমাদের জিজ্ঞাসু মনে বিচার করার ক্ষমতা জন্মায় , সত্যি ঈশ্বর বলে কিছু আছে কি না সে রহস্য ভেদ করার । সকলকে বলতে শোনা যায়, ধর্ম কর্ম বৃদ্ধ বয়সের জন্য । যখন শরীরেই কোন জোর বা শক্তি থাকে না তখন মনের শক্তি কোথা থেকে আসবে ? তাই পূজা থেকে প্রেম জীবনের মধ্য দিয়ে ঈশ্বরকে আবিষ্কার করা একমাত্র যৌবন বয়সেই সম্ভব, এটাই আমার অভিজ্ঞতা লব্ধ ফল। আমি ব্রাহ্মন নই তথাপি গুরু কৃপায় পূজা জপ ধ্যানের মাধ্যমে যে টুকু উপলব্ধি করিয়াছি তাহা বর্ণনা করিতেছি । প্রেম না হইলে আমরা কেমন করিয়া প্রেম পাইবো ? পূর্ণভাবে এখনও আমরা হই নাই, তাই তো আমরা আজও ছুটিতেছি, নানা কর্মে, নানা ধ্যানে, নানা অভিজ্ঞতায় এবং নানা চেতনার বিশ্বাসে হইতে হইতে আমরা প্রতিটি মুহুর্ত ছুটিতেছি । মনোজীবনে এই যে ছোটার রহস্য, এই যে গতি-দর্শন, ইহার সার কথা হইতেছে - সাধনার দ্বারা ক্রমশ God-like বা ঈশ্বরের মতো হওয়া। এটাই পূজার আসল রহস্য । এই রহস্য ভেদ আমার মনে হয় যৌবন কালেই সম্ভব বৃদ্ধ বয়েসে নয় , কারণ যৌবন কালেই আমাদের চিন্তা শক্তি ও বিচার শক্তি প্রবল । তাবলে উচ্ছৃঙ্খল জীবন যাপনের দ্বারা তা সম্ভব নয় । বিজ্ঞানী যেমন গবেষণা রুপ তপস্যার দ্বারা নূতন জিনিষ আবিষ্কার করেন, মানুষও তেমন পূজা রুপ তপস্যা বা গবেষণার দ্বারা মানব জীবনের চরমতম সত্যকে বা ঈশ্বরকে আবিষ্কার করতে পারবেন । -:- -:- -:-