প্রবন্ধ
কাব্যে ও সাহিত্যে নারীর মূল্যায়ন
Shyamal Samanta-:কাব্যে ও সাহিত্যে নারীর মূল্যায়ন :- ( লেখায় - শ্যামল সামন্ত ) কাব্যে বা সাহিত্যে বিভিন্ন কবি ও সাহিত্যিক নারীকে বিভিন্ন ভাবে প্রকাশ করেছেন তাদের নিজস্ব লেখনশৈলীর জাদুকাঠি দিয়ে । কেউ প্রকাশ করেছেন মাতৃত্বের প্রতীক হিসাবে, কেউ প্রকাশ করেছেন ভগিনী রুপে , কেউ করেছেন উচ্ছল যৌবনের প্রতীক হিসাবে । বেশীর ভাগ কবি বা লেখক নারীকে প্রকাশ করেছেন তার শারীরিক সৌন্দর্যের মাত্রা দিয়ে । গুনগত বিচারে কেউ বলেছেন নারী মাতৃত্বের আধার, কেউ বলেছেন নারী স্নেহের আধার, কেউ বলেছেন নারী প্রেমের আধার, কেউ বলেছেন নারী দয়ার আধার । অন্য দিকে অনেকে আবার নারীকে ছলনাময়ী, কুটিল , পরশ্রীকাতর ও নিন্দুক হিসাবে বর্ণনা করেছেন । কালজয়ী বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর কাব্যে নারীকে যে ভাবে বর্ণনা করেছেন তা আমরা সবাই জানি । আমরা সবাই আমদের চলার পথে নারীকে প্রথমে মা হিসাবে পাই , পরে বোন বা দিদি হিসাবে পাই ,বন্ধু হিসাবে পাই, স্ত্রী হিসাবে পাই, কন্যা হিসাবে পাই । আমরা সত্যিই কি নারীকে তার সমস্ত রুপের মধ্য দিয়ে তাকে সম্পূর্ণ ভাবে পাই ? এ প্রশ্ন আমাদের সকলেরই । নারীকে আমরা সম্পূর্ণরুপে পাইনা বলেই আমরা নারীকে মায়াবিনী রুপে কল্পনা করি , নারী চরিত্র জটিল মনে করি । বিভিন্ন কবি, সাহিত্যিক, দার্শনিক যে যার মত করে নারীকে বুঝেছেন সে সেই ভাবে তার উপলব্ধিকে ব্যক্ত করেছেন । কবি নজরুল তাঁর লেখা উপন্যাস 'কুহেলিকা' র মধ্যে নারী চরিত্র সন্মন্ধে যা লিখে গেছেন তা তাঁর গভীর অনুভুতি ও উপলব্ধি সাপেক্ষ - ” নারী শুধুই ইঙ্গিত, সে প্রকাশ নয়, নারীকে দেখি আমরা বেলা ভূমে দাঁড়িয়ে ! মহা সিন্ধু দেখার মত ! তীরে দাঁড়িয়ে যতটুকুদেখা যায়, আমরা নারীকে দেখি ঠিক ততটুকুই ! সমুদ্রের জলে, আমরা যতটুকু নামতে পারি, নারীর মাঝে ডুবি ততটুকুই ! সে সর্বদা রহস্যের পর রহস্য জাল দিয়ে নিজেকে গোপন করে রাখে ! এই তার স্বভাব ! কী রহস্য ওদের চোখে-মুখে, ওরা চাঁদের মত মায়াবী, তারার মত সুদূর ! ছায়া পথের মত রহস্য ! শুধু আবছায়া শুধু গোপন ! ওদের হয়তো শুধু দেখা যায়, কিন্তু ছোঁয়া যায় না ! ওরা যেন চাঁদের শোভা দু, দণ্ডের তরে ! তার পর মিলিয়ে যায় ! ওরা যেন জলের ঢেউ, ফুলের গন্ধ, পাতার শ্যামলিমা, ওদের অনুভব কর , দেখ, সাবধান কিন্তু ধরতে যেয়ো না ! যেমন ঢেউ ধরতে গেলেই জলে ডুববে, ফুলের গন্ধ শুঁকতে গেলেই কাঁটা বিঁধবে ! তাই নারী সারা জীবনেই অধরা ! ” কবি নজরুলের এই অনুভুতি তাঁর একান্ত নিজস্ব অনুভুতি । তিনি মর্মে মর্মে নারী চরিত্রকে নিজের জীবন দিয়ে অনুভব করেছিলেন, তবেই তিনি তা এইভাবে প্রকাশ করতে পেরেছিলেন ।