প্রবন্ধ
সাধন পথে অগ্রসর হওয়ার আত্মসমীক্ষা
Shyamal Samanta॥সাধন পথে অগ্রসর হওয়ার আত্মসমীক্ষা॥ ( লেখায় - শ্যমাল সামন্ত ) আমরা অনেকেই যারা সাধারণ মানুষ ধর্মের তাগিদে কেউ গুরু প্রদত্ত মন্ত্র জপ করি, কেউ ধ্যান করি, কেউ পূজা অর্চনাদি করি । আমরা কেউ শাক্ত, কেউ বৈষ্ণব, কেউ বৌদ্ধ , কেউ জৈন, কেউ খ্রিস্টান ইত্যাদি ইত্যদি । অর্থাৎ আমরা সকলেই কোন না কোন পদ্ধতিতে বা পথে নিজ নিজ ধর্মকর্ম করি । এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কি ভাবে বুঝবো যে আমরা কে কতটা নিজ নিজ ধর্ম পথে অগ্রসর হচ্ছি বা হয়েছি । আমাদের নিজেদেরই নিজেকে পরীক্ষা করে তা দেখতে হবে বা আত্মানুসন্ধান করে জানতে হবে । আধ্যাত্মিক অনুশীলনের সময় যেমন মন শান্ত থাকে, বাস্তব জীবনে কোনো সমস্যার মুখোমুখি হলে আমাদের মন সেইরকম শান্ত থাকে কি না ? কেউ প্রশংসা করলে বা নিন্দা করলে আমাদের মনে তার প্রতিক্রিয়া কি রুপ নিচ্ছে ? আমরা কি সুখ ও দুঃখ কে সমান ভাবে গ্রহন করতে পারছি? গীতায় যে ' স্থিতপ্রজ্ঞ ' অবস্থার কথা বলা আছে, আমরা কি সেই অবস্থার দিকে ধীরে ধীরে কিছুটা অগ্রসর হতে পারেছি? এসব প্রশ্নের উত্তরে যদি হাঁ হয় তবে অবশ্যই বুঝতে হবে যে আমাদের সাধন পথের উন্নতি হচ্ছে । আমাদের মন থেকে অহংকার, রাগ বা অপরের প্রতি বিদ্বেষ ইত্যাদি গুলো দূর করতে পারছি কি না,আমাদের কাছের মানুষদের ভালোবাসতে পারছি কিনা, প্রকৃতিকে ভালোবাসতে পারছি কিনা ? এই গুন গুলির দ্বারাই বোঝা যায় যে আমরা সাধন পথে উন্নত হচ্ছি । উপনিষদের ভাষায় বলতে গেলে বলতে হয় মানুষ হিসেবে জন্মগ্রহণের পর থেকেই মানুষের দুটো যাত্রা শুরু হয়, একটা inward journey এবং অপরটি হলো outward journey. Outward journey হলো, খাওয়া দাওয়া করে বড় হওয়া, পড়াশোনা বা শিক্ষা লাভ করা, কাজ করে অর্থ উপার্জন করা, বিবাহ করে সংসার প্রতিপালন করা বা সামাজিক কাজ কর্মের মধ্যে থাকা এবং কর্মের মধ্যে আসক্ত হয়ে পড়া । আর inward journey হলো নিজের মধ্যে নিজেকে খোঁজা, জন্ম-মৃত্যুর রহস্যকে উপলব্ধি করা, পঞ্চ তত্ত্বের শরীরের ভিতর প্রাণ-রুপ চৈতন্য কিভাবে যাওয়া আসা করে তার রহস্য উন্মোচন করা Outward journey র মধ্যে লোভ আছে, মোহ আছে, রাগ আছে, হিংসা আছে, প্রতিহিংসা আছে আর inward journey তে শুধুই মননশীলতা আছে, বিচার আছে আর জ্ঞান-রুপ তরবারি আছে । এই inward journey টাই আমাদের spiritual life আর outward journey টা আমাদের ভোগের জীবন বা domestic life . Inward journey র সবকিছুই একটা অদৃশ্য শক্তি দ্বারা পরিচালিত হয়, যার দ্বারা আমরা বুঝতে পারি outward journey র কোন পথটা ভালো আর কোন পথটা খারাপ । আর এই দুটো life যদি সমান ভাবে সামঞ্জস্য রেখে চলতে পারি, তবে আমাদের জীবনযাত্রাটা অনেক বেশী শান্তিপূর্ণ হবে । উপনিষদ বলছে এ জগৎ সংসার উপভোগ করার জন্যই , কেউ আমদের ভোগ করতে মানা করছে না , প্রার্থক্য এটাই - আত্ম-জ্ঞান ছাড়া সংসার উপভোগ করলে মনে হয় আমরা জগৎকে enjoy করছি, আর inward journey র মাধ্যমে আত্মজ্ঞান লাভ করলে মনে হবে জগৎ আমাদের ভোগ করছে । In the sea of Oneness, The whole Universe is the Subject and we all are objects. রবি ঠাকুরের গানের ভাষায়, ' জগতে আনন্দ যজ্ঞে আমার নিমন্ত্রণ ' । ঈশ্বর আমাদের এ জগতে নিমন্ত্রণ করেছেন এই জগতের সৌন্দর্য কে পরিপূর্ণ ভাবে উপভোগ করার জন্য । আমাদের outward journey র দিকে তাকালে মনে হবে, সত্যিই আমরা সব কিছু ভোগ করছি । কিন্তু inward journey র দিকে তাকালে inner eyesight দিয়ে দেখতে পাবো, ঈশ্বরই আমাদের সব কিছু ভোগ করাচ্ছেন, কারণ ঈশ্বর হলেন স্রষ্টা আর আমরা হলাম দ্রষ্টা । এই বোধই হোল মুক্তি বা মোক্ষ । -:- -:- -:- -:-