গদ্যকবিতা
সদ্যস্নাতা নারী শরীরের রহস্য
শ্যামল সামন্তসদ্যস্নাতা নারী শরীরের রুপে যেন একটা জাদু কাজ করে ।স্নানঘর থেকে যখন বেরিয়ে আসে একটা সদ্যস্নাতা নারী,মনে হয় স্নানে শুধুমাত্র তার দেহটাই ধৌত হয়নি -ধুয়ে গেছে তার মনের সমস্ত দৈনতা, সমস্ত মলিনতা ।ফুটে ওঠে এক ধরণের অনাবিল সজীবতা ।শরীরের মধ্যে লেগে থাকা বিন্দু বিন্দু জলমনে হয় যেন মুক্ত দিয়ে সাজানো,মাথা নেড়ে অবিন্যস্ত ভিজে চুলের জল ঝাড়ার ভঙ্গিমায় বিঁধে যায় সৌন্দর্য পিয়াসী পুরুষের মন ।সদ্যস্নাতা নারীর মুখের হাসির সাথে লেগে থাকা লজ্জার আভাস- করে তোলে তাকে অচেনা রহস্যময়ী ।আর, তার গায়ের গন্ধটা -ভেজা ত্বকের সাথে সাবানের মৃদু সুবাস -তার সাথে মিশে যায় নারী শরীরের নিজস্ব ঘ্রাণ-যা তার একান্ত নিজস্ব যা নিখাদ শুদ্ধ-যেন শরীর ও আত্মার মিলিত একটা মায়াবী গন্ধ অবিনাশি অকৃত্রিম ।এ গন্ধে বয়ে যায় পুরুষমনে জেগে ওঠে নারীকে স্পর্শ করার এক অদম্য কাতরতা ।ভেজা কাপড়ে শরীরের রেখাগুলোফুটে ওঠে আধফোটা ফুলের মতো -যেন কোন নিপুণ চিত্রকরের জল রঙে আঁকা ছবি -ঝাপসা হয়ে ধরা দেয়নারীর প্রস্ফুটিত যৌবন ।এ রুপ শুধু দেখার জন্য নয়-এ রুপ অনুভবের জন্য ।সদ্যস্নাতা নারীর সৌন্দর্যে পাগল হয় না,এমন পুরুষ কমই আছে ।ঐ সময়ে নারীকে শুধুমাত্র ভালোবাসতেই ইচ্ছা করে না -চুম্বনে ভরে দিতে ইচ্ছে করে,ইচ্ছে করে জড়িয়ে ধরে নিজের করে রাখি চিরকাল এই ক্ষণ কালকে - সদ্যস্নাতা নারীর সিক্ত শরীরের রুপে আছেএক নীরব চপলতা, লাজুকতা আর অস্বাভাবিক কোমলতা-পূর্ণ কামনা ।এ রুপ সবার জন্য নয় -এ রুপ নারীর একান্ত, গভীরভাবে ব্যক্তিগত,নারী এ সৌন্দর্যের প্রকাশ সযত্নে তুলে রাখেতার একান্ত প্রিয় মানুষটির জন্য ।সদ্যস্নাতা নারীর অপরূপ সৌন্দর্য শুধুমাত্র চোখ দিয়ে দেখা যায় নাএ রুপ দেখতে হলে মনের চোখ দিয়ে দেখতে হবে,দেখতে হবে শিল্পীর চোখ দিয়ে,কামনার চোখ দিয়ে দেখলে -এ রুপ অধরাই থেকে যাবে ।।