মূল পাতায় যান
খোলা বইয়ে ফিরুন

প্রবন্ধ

মানবজীবনে বেদান্ত দর্শনের প্রভাব এবং শারীরিক দুঃখ-কষ্ট নিবারণের উপায়

শ্যামল সামন্ত

জীবনের যে কোন অবস্থায় সমস্ত চা ওয়া-পাওয়া পরিত‍্যাগ করে ঈশ্বরের ভজনা করাই যেন আমাদের লক্ষ্য হয়ে ওঠে । বাড়ী, গাড়ি, অর্থ, মানুষের আসা-যাওয়া- সবই আছে, কিন্তু সেগুলো যদি আমি আঁকড়ে ধরি, তবে সংসারকেই আঁকড়ে ধরা হলো । তখন এই সমস্ত কিছু থেকে সৃষ্ট ফলাফল আমাকে সুখ বা দুঃখ দেবে, আমার মনে নানা ধরনের চাহিদা তৈরি করবে এবং ক্রমশই আমার মন ঈশ্বরের আরাধনা থেকে দূরে সরতে থাকবে । ঈশ্বরকে দু হাতে আঁকড়ে ধরলে , এই জগৎসংসারের কষ্ট আর আমাদের বিচলিত করে না । বেদান্তের পঞ্চদশীতে উল্লেখ আছে- ঈশ্বরসৃষ্টি আমাদের কষ্ট দেয় না, জীব সৃষ্টি আমাদের কষ্ট দেয় । ঈশ্বরসৃষ্টি কি ? এই জগৎ, এই শরীর। তাহলে এই জগতে তো কতো কষ্ট, এই শরীর তো কতো কষ্ট বা পীড়া সহ‍্য করে, তাহলে ঈশ্বরসৃষ্টি আমাদের কষ্ট দেয় না, এ কথা বলি কি করে ? বেদান্ত মতে বিচার করলে, ঈশ্বরসৃষ্ট এই জগৎ, শরীর বা বিভিন্ন শারিরীক অবস্থা সকলের জন্যই এক । রোগ-পীড়ার মধ‍্য দিয়ে সবাইকেই যেতে হয় । কিন্তু কষ্ট আসে আমাদের অজ্ঞানতা থেকে - আর এই অজ্ঞানতা থেকেই আমরা মনে করি, আমি শরীর এবং এই শরীরের কষ্ট আমারই কষ্ট। আমি মন এবং এই মনের কষ্ট আমারই কষ্ট । সেই জন‍্য শাস্ত্র বলছেন, এই জীবসৃষ্টি অর্থাৎ ‘আমি-আমরা’ রুপ অজ্ঞানজনিত কষ্ট থেকে মুক্তি পেতে হলে আমাদের ঈশ্বরাভিমুখী হতেই হবে, এছাড়া আর অন‍্য কোন পথ নেই । (তথ‍্য সংগ্রহ - “বেদান্ত যাপন - স্বামী সর্বপ্রিয়ানন্দ )

Facebook-এ প্রকাশ · ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫25 Sep 25