ভাবনা
আজ ষষ্ঠী — মা-এর বোধন
শ্যামল সামন্তসেই ছোটবেলা থেকে মহালয়ার পরদিন থেকেই শুনতে পাই ষষ্ঠীর দিন মা এর বোধন । মা কে জিজ্ঞেস করতাম 'মা বোধন কি' ? মা বলতেন ঐ পুজো শুরু করাকেই বোধন বলে , আরও কতকিছু বলে বোঝাতো, কিছু বুঝতাম কিছু বুঝতাম না । আজ বড়ো হয়ে বুঝলাম বোধন শব্দের মানে কত ব্যপাক কত গভীর । বোধন শব্দের অর্থ মূলত 'জাগ্রত করা' বা ‘উদ্বোধন করা' সংস্কৃত ধাতু 'বুধ' থেকে এর উৎপত্তি, যার মানে হলো জানা, জাগা বা সচেতন হওয়া । অর্থাৎ বোধন শব্দের আর এক অর্থ হলো ‘সচেতন করা' । আধ্যাত্মিক দৃষ্টিভঙ্গিতে বোধন শব্দের অর্থ হলো আত্মজ্ঞান বা চেতনার জাগরণ । ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট থেকে বিচার করলে, বিশেষভাবে দুর্গাপূজার সময় দেবীর বোধন মানে ‘দেবীকে মর্ত্যে আহ্বান করা বা জাগ্রত করা', তিনি যেন পূজার জন্য মর্ত্যে উপস্থিত হন। সাধারণ অর্থে- বোধন মানে , কারো অচেতন অবস্থা থেকে জাগানো, ঘুম ভাঙানো বা নতুন করে সচেতন করা । সারসংক্ষেপে , বোধন মানে শুধুমাত্র 'দেবী-জাগরণ' নয়, যে কোনো স্তরে জ্ঞান, চেতনা, অনুভূতি বা শক্তির জাগরণ । উপনিষদের ভাষায়, বোধন মানে হলো অবিদ্যার অন্ধকার ভেদ করে আত্মজ্ঞানের আলোয় জেগে ওঠা । অবিদ্যার অন্ধকার পার হয়ে বিদ্যার দ্বারা অমৃতলাভের জন্য জেগে ওঠা । অদ্বৈত বেদান্তে বা দর্শনে, আত্মা আর ব্রহ্ম অভিন্ন, কিন্তু মায়ার কারণে আমরা নিজেদের দেহ-মন বলে ভুল করি । অদ্বৈত বেদান্তে বোধন মানে - সেই ভুল থেকে মুক্তি পেয়ে উপলব্ধি করা- ' আমি শরীর নই, আমি মন নই, আমি চিরন্তন আত্মা' । এই চেতনার উন্মেষই হলো প্রকৃত বোধন । সংক্ষিপ্তভাবে, বোধন হলো আত্মার জাগরণ- অন্ধকার থেকে আলোর দিকে, সীমাবদ্ধতা থেকে অসীমের দিকে, মায়া থেকে সত্যর দিকে যাত্রা ।