মূল পাতায় যান
খোলা বইয়ে ফিরুন

প্রবন্ধ

রবীন্দ্রকাব্যে আধ্যাত্মিকতা পর্ব ৩

Shyamal Samanta

-: রবীন্দ্র কাব্যে আধ্যাত্মিকতা :- ( পর্ব -৩ ) ( লেখায় - শ্যামল সামন্ত ) " বৈরাগ্য সাধনে মুক্তি সে আমার নয় || - - - - - - - - - - ইন্দ্রিয়ের দ্বার রুদ্ধ করি যোগাসন, সে নহে আমার | যা কিছু আনন্দ আছে দৃশ্যে গন্ধে গানে তোমার আনন্দ রবে তার মাঝ খানে || মোহ মোর মুক্তি রুপে উঠিবে জ্বলিয়া প্রেম মোর ভক্তি রুপে রহিবে ফলিয়া || " (( মুক্তি (নৈবেদ্য) )) 'মুক্তি' কবিতাটি পড়ে মনে হতে পারে কবি বোধ হয় কৃচ্ছতাবাদকে পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন এবং ভোগের উৎকর্ষতাকে প্রশ্রয় দিয়েছেন | আসলে তিনি চেয়েছেন ভোগের মাধ্যমে পরিশ্রুত হয়ে ত্যাগের পরীক্ষায় উর্ত্তীর্ণ হতে | তবেই প্রকৃত মুক্তি সম্ভব | জগৎ কোন বন্ধন নয়, জাগতিক কল্যাণ ও মিথ্যা নয়, জগৎ আত্মোন্নতির সুযোগ করে দেয় এবং আত্মোপলব্ধির পথ প্রস্তুত করে দেয় | ভগবান নিজেই যদি সৃষ্টির বন্ধনে আবদ্ধ থাকেন, তবে আমরাই বা জগতের বন্ধন গ্রহন করবো না কেন ? আমরা নিজেরাই যদি উষ্ণ মাংসের আবরণে আচ্ছাদিত থাকি, তবে বন্ধনকে মায়া বলে অস্বীকার করার কোন যুক্তি থাকে না | আমাদের ভালোবাসা যখন নিঃস্বার্থ হয় তখন আমরা জাগতিক বস্তু সকলের মধ্য দিয়ে ঈশ্বরকেই ভালোবাসি | ভালোবাসার মোহ তখন মুক্তির আকর্ষনে আকর্ষিত হয় | প্রেমহীন দৈহিক মিলন যেমন বেশ্যাবৃর্ত্তির মূল কথা ,স্বার্থপুর্ণ ভালোবাসা ও তেমন আসক্তির মূল কথা | অর্থাৎ বিশ্বপ্রেমিক হয়ে সার্বজনীন দৃষ্টিভঙ্গী নিয়ে যদি জগৎকে ভালোবাসা যায় তবে সেই বন্ধন মুক্তিরই পরিপন্থি | মানসিক দিক থেকে কৃচ্ছসাধন না করলে সার্বজনীন দৃষ্টিভঙ্গী নিয়ে জগৎকে ভালোবাসাও যাবে না | অর্থাৎ ব্যবহারিক দিক থেকে কবি কৃচ্ছতাবাদকে অস্বীকার করলেও মানসিক দিক থেকে তা করেননি |এখানেই রবীন্দ্র দর্শনের উৎকর্ষতা | রবীন্দ্রনাথের প্রতিটি কবিতা ও গানের মধ্য দিয়ে এই একই ভাব-দর্শন স্ফুরিত হয় | ক্রমশঃ

Facebook-এ প্রকাশ · ১৫ মার্চ, ২০২২2022-03-15