মূল পাতায় যান
খোলা বইয়ে ফিরুন

প্রবন্ধ

রবীন্দ্রকাব্যে আধ্যাত্মিকতা পর্ব ৪

Shyamal Samanta

-: রবীন্দ্র কাব্যে আধ্যাত্মিকতা :- ( পর্ব ৪ ) লেখায় - শ্যামল সামন্ত " হঠাৎ সন্ধ্যায় সিন্ধু বারোয়াঁয় লাগে তান সমস্ত আকাশে বাজে অনাদিকালের বিরহ বেদনা তখন মূহূর্তে ধরা পড়ে এ গলিটা ঘোর মিছে দুর্বিষহ মাতালের প্রলাপের মতো " (( বাঁশি, (পরিশেষ) )) বাঁশি কবিতাটির এই অংশটিতে হরিপদ কেরানীর নিঃসঙ্গ জীবনের ব্যথা বেদনা, হতাশাকে প্রকট করে দেখানোর জন্যই বোধ হয় কবি এই রুপ লিখেছেন | এই হতাশা-কাতর মূহূর্তেই যেন জীবনটাকে মিথ্যে মনে হয় হরিপদ কেরানীর, আর সেই সঙ্গে তার ভালো-মন্দ সব কিছু মিশে এক হয়ে যায় | এই হোল কবিতার সাধারণ অর্থ | কিন্তু দার্শনিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে দেখা যাবে এখানে কবি সুদূরের আভাসকে কি নিখুঁত ভাবে চিত্রিত করেছেন | পরিদৃশ্যমান জগতের পশ্চাতে একটা অদৃশ্য শক্তি, যাকে জীবনী শক্তি বলা যায় - সেটা অনবরত কাজ করে চলেছে | এই জীবনীশক্তিকেই কবি সুদূর হিসাবে আখ্যা দিয়েছেন | গতানুগতিক জীবনের ক্লান্তিতে মন যখন গতানুগতিকতার গণ্ডী থেকে মুক্তি পেতে চায় তখনই সেই সুদূরের আকর্ষনে মনে বিরহ বেদনা ফুটে ওঠে | এ বিরহ বেদনা শুধুমাত্র হরিপদ কেরানীর নয় - এ বিরহ বেদনা সমস্ত মানুষের অনন্তকালের | এই বিরহ বেদনায় পুড়ে পুড়েই মানুষ সুদূরের পথযাত্রী হয় এবং শেষে একদিন অসীমের সাথে মিশে গিয়ে মুক্তির আস্বাদ গ্রহণ করে | এটাই আধ্যাত্মিক অর্থে মুক্তি বা মোক্ষ | এখানেই কবির কবিতা ও গানের মধ্য দিয়ে মানব জীবনের মনে আধ্যাত্মিক ফসল ফলানোর সার্থকতা | ক্রমশ :

Facebook-এ প্রকাশ · ২১ মার্চ, ২০২২2022-03-21