প্রবন্ধ
রবীন্দ্রকাব্যে আধ্যাত্মিকতা পর্ব ৯
Shyamal Samanta-: রবীন্দ্রকাব্যে আধ্যাত্মিকতা :- ( ধারাবাহিক ) ( পর্ব - ৯ ) ( কলমে - শ্যামল সামন্ত ) 'বসুন্ধরা' কবিতাটির একেবারে শেষে কবি লিখেছেন, " —————- জননী লহো গো মোরে, সঘন বন্ধন তব বাহু যুগে ধরে আমারে করিয়া লহো তোমার বুকের, তোমার বিপুল প্রাণ বিচিত্র সুখের উৎস উঠিতেছে যেথা সে গোপন পুরে আমারে লইয়া যাও - রাখিয়ো না দূরে | ” এর আগের পর্বে বলেছিলাম যে আমরা মাতা বসুন্ধরার যে সমস্ত কক্ষ থেকে ইন্দ্রিযগ্রাহ্য সুখ ও আনন্দ উৎসারিত হচ্ছে আমরা সেখানেই নিজেদের ব্যপ্ত রেখেছি | কবি কিন্তু এমন একটি কক্ষের খোঁজ করছেন যেখানে সাধারণ জীব যাবার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করে না এবং মাতা বসুন্ধরা নিজেও সেখানে কাউকে যেতে দিতে রাজি নন | আমরা এবার সেই কক্ষেরই খোঁজ করবো | আমাদের গর্ভধারিনী মাতা যেমন তার শিশুদের প্রয়োজন অনুসারে তাহাদের চাহিদা মেটান এবং এক এক জনকে বিভিন্ন দৃষ্টিকোন থেকে ভালোবাসেন, ঠিক সেই দৃষ্টিকোন থেকেই কবি ও মাতা ধরিত্রীর কাছে প্রার্থনা করছেন - যে তোমার অসীম অঙ্গের যে কক্ষ থেকে সৃষ্টির অনাদি রহস্য উদঘাটিত হচ্ছে, আমাকে সেই কক্ষে যেতে দাও | তাই একথা অনস্বীকার্য যে কবি এখানে সাধারণ মৃত্যুর পর মাতা ধরিত্রীর অসীম ক্রোড়ে স্থান পাওয়ার কথা বললেও সূক্ষ ভাবে সেই মুক্তির কথা বলে গেছেন যে মুক্তি জীবন-মরণের আসা-যাওয়াকে সমাপ্ত করে দেয় | বেদান্তের ভাষায় 'ঈশ্বর একম অদ্বিতীয়ম' অর্থাৎ তিঁনি সাকার আবার নিরাকারও বটে | তাই মাতা বসুন্ধরার প্রকাশের অন্তরালে যে নিরাকারের ঘর আছে তাহাই এখানে কবির কল্পনায় গোপন কক্ষ | যে কক্ষের সন্ধান প্রকৃতিরানী বা 'মা মহামায়া ' সকলকে দেন না | তাই কবি আকুল ভাবে প্রার্থনা করেছেন সেই কক্ষে নিয়ে যাওয়ার জন্য যেখানে গেলে মানুষের জন্ম-মৃত্যু রুপ আসা-যাওয়ার পথের পরিসমাপ্তি ঘটে | যাহাকে আমরা মোক্ষ বা মুক্তি বলি | ক্রমশ :