মূল পাতায় যান
খোলা বইয়ে ফিরুন

প্রবন্ধ

উপনিষদ — ব্রহ্মবিদ্যার আধার পর্ব ২

Shyamal Samanta

-: উপনিষদ - ব্রহ্মবিদ্যার আধার :- (ধারাবাহিক) (“পর্ব -২) ( লেখায় - শ্যামল সামন্ত ) আমরা সবাই জানি যে বেদের অপর নাম শ্রুতি । কারণ সেই সময় লেখার কোন পদ্ধতির প্রচলন না থাকায় গুরুমুখে শ্রবণ করেই বেদ মুখস্ত করতে হোত বা বেদ অধ্যয়ন করতে হোত । আর এই কারণেই বেদের অপর নাম ছিল শ্রুতি । গুরু গৃহে এক একটি বেদ অধ্যয়ন করার জন্য বারো (১২) বৎসর নির্ধারিত থাকতো । অর্থাৎ ৪ (চার) টি বেদের জন্য গুরু গৃহে (৪x১২=৪৮) আটচল্লিশ বৎসর বেদ অধ্যয়ন ও ব্রহ্মচর্য পালন করতে হোত । ক্রমশ এই সময অধিক হওয়ার কারণে অনেক শিক্ষার্থী তিনটি বেদ (৩x১২=৩৬) ৩৬ বৎসর অধ্যয়ন করে পড়া শেষ করতো । আবার কেউ কেউ ৪টি বেদই এক একটি ৬ বৎসর করিয়া (৪x৬) ২৪ বৎসরে অধ্যয়ন শেষ করতো । পরবর্তী কালে প্রতিটি বেদ ৩ বৎসর করিয়া ৪ টি বেদ (৩x৪) ১২ বৎসরে বেদ অধ্যয়ন ও ব্রহ্মচর্য শেষ করার রীতিও ছিল । বেদ অধ্যয়ন সমাপ্তির পর গুরুর অনুমতি নিয়ে সমাবর্তন অনুষ্ঠান হোত । সমাবর্তন এর অর্থ হোল গুরু গৃহ হতে অধ্যয়ন শেষে নিজ গৃহে প্রত্যাবর্তন । যেহেতু তখন বেদের বিষয় বস্তু লিপিবদ্ধ করার কোন প্রক্রিয়া ছিল না, বেদের অধিকাংশই লুপ্তপ্রায় । বেদ হচ্ছে ভারতবর্ষের সনাতন ধর্মের আধ্যাত্মিক সচেতনতার পূর্ণাঙ্গ দলিল । বেদ কবে কিভাবে কারা লিপিবদ্ধ করে গেছেন সে সমস্ত ব্যপার আমাদের বিচার্য নয় । আদিগুরু শঙ্করাচার্য বৈদিক উপনিষদের যে তালিকা করে গিয়েছেন সেই হিসাবে মোট ১২ (বারোটি) টি উপনিষদের উল্লেখ আছে । সেগুলি যথাক্রমে - (১) ঈশ, (২) কেন, (৩) কঠ, (৪) প্রশ্ন, (৫) মুণ্ডক, (৬) মাণ্ডুক্য, (৭) তৈত্তিরিয়, (৮) ঐতেরেয়, (৯) শ্বেতাশ্বতর, (১০) ছান্দোগ্য, (১১) বৃহদারণ্যক ও (১২) কৌষীতিকি উপনিষদ । উপনিষদ হতেই আমরা জানতে পারি বিদ্যা দুই প্রকার - (১) পরা বিদ্যা (২) অপরা বিদ্যা । যে বিদ্যার দ্বারা আত্মবিদ্যা বা ব্রহ্মবিদ্যা লাভ করি তাহাই পরা বিদ্যা । আর যে বিদ্যার মাধ্যমে আমরা বস্তুবিদ্যা বা অর্থকরী বিদ্যা লাভ করি তাহাই অপরা বিদ্যা । উপনিষদের দ্বারা আমরা আধ্যাত্ম-জ্ঞান বা ব্রহ্ম-জ্ঞান লাভ করি তাই ইহা পরা বিদ্যা । এই পরাবিদ্যাযুক্ত উপনিষদকে কেন্দ্র করিয়াই পরবর্তী কালে অদ্বৈতবাদ, দ্বৈতবাদ,বিশিষ্টাদ্বৈতবাদ ও শুদ্ধাদ্বৈতবাদ প্রভৃতি মতবাদের সৃষ্টি হইয়াছে । ক্রমশ :

Facebook-এ প্রকাশ · ২২ আগস্ট, ২০২২2022-08-22