কবিতা
ভালোবাসার উল্টো পুরাণ
Shyamal Samantaস্বরচিত কবিতা - -: ভালোবাসার উল্টো পুরাণ :-( লেখায় - শ্যামল সামন্ত )মায়ের কোলে ভালোবাসার আদর খেতে খেতেহামাগুড়ি দিয়ে যেতে যেতেকখন যে দুষ্টুমি করা শিখলাম,কথা বলতে শিখলামকথা বুঝতে শিখলাম,মায়ের ভালোবাসার ধরণ শিখলামমায়ের মুখে শাসনের ভঙ্গীমাঅনুভব করতে শিখলাম -সে সব আজ প্রকৃতির রহস্যে ঢাকাতবুও মনে হয় স্মৃতি পটের এক কোণে আঁকা ।।শৈশবের স্মৃতির মালাতে মনে পড়েকিছু ভালোবাসা অপ-ভালোবাসার ইতিকথাআছে গাঁথা -যৌবন স্মৃতির মালাতে মনে পড়েশাসন অপ-শাসনের নীতিকথা,যৌক্তিকতা ও অযৌক্তিকতাএকই সুত্রে গাঁথা ।একটু দুষ্টুমি করলেই মা বলতো -পাড়ার অমুক ছেলেটাতোর চেয়ে অনেক ভালোমায়ের সব কথা শোনেনিয়ম করে পড়া-শুনা করে,গুরুজনদের দেওয়া প্রতিটি কাজপালন করে অক্ষরে অক্ষরে ।এক এক দিন এক এক জনের সাথে তুলনা-জানিনা কেন ?খুব অভিমান হোত -ভাবতাম, এটা কি ধরণের শাসন ,সৃষ্টি হতো মনের মাঝেদুঃসহ এক ক্ষত ॥দুষ্টুমি করলেইপ্রথমে বকা-ঝকাতারপর হালকা করে অল্প মার-ধোর,তাতেও কাজ না হলেই শুনতে হোত -অমুকের ছেলে, তমুকের ছেলেসবাই তোর চেয়ে ভালো ।কেন যে এমন ছেলেপেটে ধরেছিলুম ?শুনে খুব অভিমান হোত -মনে মনে ভাবতামসত্যি কি আমি খারাপ ছেলে,মা কে কি একটু বেশীই জালাতন করি ?একটু পরেই কেমন করে যেনমুছে যেতো সব অভিমানমায়ের ভালোবাসার আঁচলে ॥মায়ের ভালোবাসার আঁচলের গন্ডী পার হয়েএখন স্ত্রী-রুপী বিষম রমনী-প্রেমের গন্ডীতে ।একই ভূমিতে এখন দুটি ক্ষেত্রএকটি পিতৃ-মাতৃ ক্ষেত্রঅপরটি স্ত্রী ক্ষেত্র ।পিতৃ-মাতৃ ক্ষেত্র হতে মা এর সাবধানি তীর ভেসে আসেবাবা বউকে সাবধানে রাখিস,বেশী প্রশ্রয় দিস নাবউকে মাথায় তুলে যেন স্ত্রৈন হয়ে যাস না ।মা এর সাবধানী তীরের আওয়াজ শুনেবউ এর তূণ থেকে একের পর এক তীর বেরিয়ে আসেঅমুকের স্বামী তার বউকে নিয়ে আন্দামান ঘুরে আসলোতমুকের স্বামী তার বউকে তিন ভরি সোনার হার গড়িয়ে দিলোইত্যাদি ইত্যাদি …আর তুমি আমার কোনও খেয়ালই রাখো না ।দুই পক্ষের সেনাপতি আমি একাইরক্তাক্ত রণ ক্লান্ত সৈনিক ।আমি মা কে কি করে বোঝাইযে, তোমার ভালোবাসা উপেক্ষা করেআমি স্ত্রৈন হতে যাবো কেন ?আর কি করে বোঝাই বউকে -টাকা পয়সার আভিজাত্য দিয়েকারো খেয়াল রাখা যায় নাসত্যিকারের ভালোবাসা যায় না ।কি করে বোঝাই তোমাদেরতোমরা সবাই আমার আপনজন,আমি কারুর জন্য কাউকেই অবহেলা করতে পারি না ॥ভালোবাসার নদীতেকখন কোনদিক থেকে যে জোয়ার আসেকোনদিক থেকে যে ভাঁটা আসেএটা বুঝে ওঠাও বড়ই কঠিন ।যারা ভালোবাসার চড়াই উতরাইকে মানিয়ে নিয়েসঠিক দিক নির্ণয় করেএগিয়ে যেতে পারেতারাই ভালোবাসার নদী পার হয়েপ্রেমের সাগরে পতিত হয়ে পূর্ণ হয় ।ভালোবাসার পুরাণ হয়তো বাসবাই পড়েছেকিন্তু -ভালোবাসার উল্টো পুরাণহৃদয়াঙ্গম না করলেভালোবাসার বৈতরণী পার হওয়ার ইচ্ছাঅপূর্ণই থেকে যাবেআরতার সাথেপ্রেমসাগরে পতিত হওয়ার রসপোলব্ধির অনুভুতি ওঅজানাই থেকে যাবে ॥-:- -:- -:-