মূল পাতায় যান
খোলা বইয়ে ফিরুন

প্রবন্ধ

আমার জীবনে ঈশ্বর অনুভূতি পর্ব ২

Shyamal Samanta

-: আমার জীবনে ঈশ্বর অনুভূতি :- ( পর্ব-২ ) ( কলমে - শ্যামল সামন্ত ) আমাদের সামন্ত বংশের কুল-গুরু , উনি কলকাতায় থাকতেন । প্রতি বৎসর একবার আমাদের গ্রামে আসতেন সমস্ত শিষ্য-বাড়ী পরিদর্শন করতে। তিঁনি থাকতেন আমাদের বাড়িতে। এক এক দিন এক -এক জন শিষ্যের আতিথেয়তা গ্রহণ করিয়া ২০-২৫ দিন পরে আপন গৃহে অর্থাৎ কলিকাতায় ফিরে যেতেন । সকালের প্রাতকৃত্য ও নদীতে স্নান রাত্রির খাবার এবং শয়ন আমাদের ঘরেই হোত । আমি যখন গুরুদেবকে প্রথম দেখি তখন মনে হয় আমার বয়স পাঁচ-ছয় বৎসর হবে । আমার ঠাকুরমা , বাবা-মা সকলেই ওনার কাছে দীক্ষিত, আমাদের বংশের কুল-গুরু হিসাবে । ঠাকুরমা এবং মা গুরুদেবের সমস্ত দেখাশুনা করতেন বা সেবা করতেন । শৈশবে আমার যতটুকু লাভ, আমি ঐ সময় থেকেই তাঁর সান্নিধ্য লাভ করেছিলেম। আমি তাঁর সবসময়ের গল্পের সঙ্গী হয়ে যেতাম । প্রতি বৎসরই তিঁনি আসতেন এবং আমি তাঁর সহচর্য লাভ করতাম । ঐ ছোট বয়সেই তিঁনি আমাকে অনেককিছু শিখিয়েছিলেন, যেমন ঘুম থেকে উঠেই বিছানাতে ভগবানকে প্রণাম করে তবেই মাটিতে পা রাখতে হয়, প্রথম সূর্যোদয়ের সময় সূর্যদেবকে প্রণাম করতে হয় , তাতে শরীর সুস্থ থাকে, রাতে শোয়ার আগে ভগবানকে মনে মনে প্রণাম করে তবে শুতে হয় । সূর্যের প্রণাম মন্ত্র, নব-গ্রহ স্তোত্র, দশ-মহাবিদ্যার নাম ইত্যাদি আমাকে লিখে দিয়েছিলেন পাঠ করার জন্য। ঐ বয়সে ঐ সব নিয়ম মেনে চলাটা একটা শিশুর পক্ষে কতটা সম্ভব তা জানতাম না, কিন্তু ওনার কাছ থেকে ঐসব উপদেশগুলো শুনতে আমার খুব ভালো লাগতো । উনি বারবার বলতেন, কখনও মিথ্যাকথা বলবেনা, সর্বদা গুরুজনদের শ্রদ্ধা করবে ,মা-বাবাকে শ্রদ্ধা করবে এবং ম-বাবার মনে কখনও দুঃখ দেবেনা । উনি হাত দেখতে জানতেন কি না আমি জানতাম না, কিন্তু উনি বাচ্ছাদের দেখলেই বলতেন, দেখি তোর হাতটা দেখি, তারপর হাতটা দেখে বলতো - গুরুজনদের ও বাবা-মা কে শ্রদ্ধা করবি, তোর অনেক উন্নতি হবে । পরে বড় হয়ে বুঝতে পারি উনি ছোট ছোট ছেলেদের মনে গুরুজনদের শ্রদ্ধা-ভক্তি জাগানোর জন্যই ওটা করতেন । তিনি অত্যন্ত সরল এবং সৎ মানসিকতার লোক ছিলেন । তিনি আমার শিশু মনের উপর আমার কল্পনার ভগবানের উপর একটা বিশ্বাসের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন যেটা আমার উত্তরকালে ঈশ্বরকে অনুভব করতে শিখিয়েছে । তার শেখানো মতো উপদেশগুলো আমি আমার শৈশব অবস্থা থেকেই কিছু কিছু পালন করতে চেষ্টা করতাম, যেগুলো পরবর্তীকালে অভ্যাসে পরিণত হয়ে গিয়েছিল । তাই আমার মা-এর পর তিনিই আমার প্রথম গুরু যিনি আমার মনে ঐশ্বরিক চেতনার রং লাগিয়ে ছিলেন ॥ ( ক্রমশঃ )

Facebook-এ প্রকাশ · ৫ জুলাই, ২০২৪2024-07-05