কবিতা
অচিন পাখী
Shyamal Samanta॥ স্বরচিত কবিতা ॥ " অচিন পাখী "( লেখায় - শ্যামল সামন্ত )আমরা যত বড় হতে থাকিঅভিজ্ঞতার ঝুলি ততো ভরতে থাকেবুঝতে পারি, আমরা কেউ সুখী নইসবাই সবাইকে দেখাতে চাইদেখ - আমরা কত সুখীকত আনন্দে আছি ।অভিজ্ঞতার ঝুলি থেকেমুখ-বন্ধ কিছু কিছু খাম খুলে দেখো -এমন কিছু কিছু দুঃখ আছে,এমন কিছু যন্ত্রনা আছে -যেগুলো কাউকে বলা যায়নাকারো সঙ্গে শেয়ার করা যায় না।শুধুই মনকে ক্ষত বিক্ষত করেশৈশব আর কৈশরের সময়গুলো,সুখস্মৃতিগুলো কখনও কখনও উঁকি মারে-কিছুটা প্রলেপ লাগায়না প্রকাশ করতে পারা যন্ত্রণার ক্ষত গুলোতে।মনে করিআমরা সবাই খুব আনন্দে আছি,আসলে সেটা প্রতিযোগিতার আনন্দ,উন্মত্ততার আনন্দ, প্রাচুর্যের আনন্দযেখানে আমরা আমার 'আমি' কে খুঁজে পাই না -খুঁজতে চেষ্টাও করি না ।জীবনের প্রতিযোগিতার দৌড়ে ছুটতে ছুটতেযখন ক্লান্ত হয়ে যাই, একটু একটু করে নিঃসঙ্গ হয়ে পড়িতখন আমরা সত্যিকারের আমি কে খুঁজিবুঝতে পারি আসলে আমরা আনন্দে নেই,আনন্দে ছিলামও না -আনন্দের ভান করে থাকতাম ।একটা কথা আছে -যে জিনিষটা আমাদের সবচেয়ে কাছে থাকেআমরা সেটাই খুঁজে পাই না -শ্রী শ্রী ঠাকুর বলতেন -'আমাদের ভিতর যেটা 'আমি, আমি' করছে,সেটাই ব্রহ্ম” ।ছোটবেলা থেকে আমরা শুনে আসছি,'ঈশ্বর সর্বত্র বর্তমান' কিন্তু কোথায় -আমরা খুঁজতে চেষ্টাও করিনা,কারণ, আমাদের হাতে আলো চোখে আঁধার ।ঐ যে খাঁচার ভিতর অচিন 'পাখী'আমরা দিন-রাত তাঁকে অনুভব করছি,তবু আমরা জানি না যে তাঁকে অনুভব করছি ।কিন্তু যেই মুহূর্তে আমরা ঐ সত্যকে জানতে পারি,আর তখনই বুঝতে পারি -ঐ অচিন পাখীই ব্রহ্মের প্রকাশ । মনে হয়বৃথাই খুঁজেছি তাঁরে জীবনের অনেকটা সময় -মন্দিরে, মসজিদে আর গীর্জায় ॥-:- -:- -:-