প্রবন্ধ
রবীন্দ্রকাব্যে আধ্যাত্মিকতা পর্ব ১০
Shyamal Samanta-: রবীন্দ্রকাব্যে আধ্যাত্মিকতা :- (ধারাবহিক) ( পর্ব - ১০ ) ( কলমে - শ্যামল সামন্ত ) এতোদিন আমরা রবীন্দ্রনাথের কিছু কবিতা নিয়ে আলোচনা করেছি | আমি পাঠকগনকে বুঝাবার চেষ্টা করেছি, যে রবীন্দ্রনাথের কবিতার মধ্যে কিভাবে একটা আধ্যাত্মিকতার বীজ লুকানো আছে, সেটা প্রত্যক্ষ ভাবেই হোক বা পরোক্ষ ভাবেই হোক | কোন ও কবিতা পড়ে যদি আমরা চিন্তার গভীরে প্রবেশ না করতে পারি তবে সেই আধ্যাত্মিক দার্শনিকতার গন্ধ অনুভব করতে পারবো না | এটা যে যেমন পাঠক সে সেই ভাবে সেই রসের আস্বাদন করিতে পারিবে | এবার আমরা কিছু রবীন্দ্র সংগীত নিয়ে আলোচনা করে বুঝতে চেষ্টা করবো যেখানে কবি গানের মধ্য দিয়ে কিভাবে মানুষের আধ্যাত্মিক সাধনার পথকে উন্মুক্ত করে দিয়েছেন | আধ্যাত্মিক সাধনা বলতে আমরা সাধারণত বুঝি - পূজা, যাগ, যজ্ঞ, জপ-ধ্যান ইত্যাদি যার মাধ্যমে আমরা ঈশ্বরের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করি | আমরা অনেকেই হয়তো পূজার মন্ত্রের অর্থভেদ না করেই ভক্তিরসে সিক্ত হবার প্রয়াস করি, যেটা একটা অসাধারণ কঠিন প্রচেষ্টা বলা যেতে পারে | আমরা কিছু সাধকের কথা জানি যারা শুধুমাত্র গানের মধ্য দিয়েই তাদের আরাধ্য দেব - দেবীদের পেয়েছেন, যেমন সাধক রামপ্রসাদ, কমলাকান্ত, সাধিকা মীরাবাই এবং আমাদের ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ | যদিও রামকৃষ্ণদেব অনেক রকমের সাধনাই করেছেন, তথাপি গানের মধ্য দিয়ে তিনি যেন অতি সহজ ভাবে ভাবসমাধিতে পৌঁছাতে পারতেন | গানের প্রতিটি শব্দই যেন মন্ত্র যেগুলো মনের মধ্যে আঘাত করে তাকে নিদ্রা হতে জাগিয়ে তোলে, আর সুর হচ্ছে সুগন্ধিত বাতাস যা সাধক বা মানুষকে ঈশ্বরের কাছে ভাসিয়ে নিয়ে চলে | সেই জন্যই বোধ হয় বলা হয় - 'সুর ব্রহ্ম' ও 'শব্দ ব্রহ্ম' | যখন শব্দ ও সুর একসাথে মেশে তখনই তাকে বলে গান যা মা স্বরস্বতীর আশীর্বাদ | এই গানের ভেলা বেয়েই সাধক অতি সহজে সচ্চিদানন্দ সাগরে ভেসে যেতে পারে, যেটা অনেক সহজ | তাই পরবর্তি লেখায় আমরা রবীন্দ্রনাথের কিছু গান নিয়ে পর্যালোচনা করবো | ক্রমশ :