প্রবন্ধ
রবীন্দ্রকাব্যে আধ্যাত্মিকতা পর্ব ১১
Shyamal Samanta-: রবীন্দ্রকাব্যে আধ্যাত্মিকতা :- (ধারাবাহিক) ( পর্ব - ১১ ) ( কলমে - শ্যামল সামন্ত ) এবার আমরা কয়েকটা পূজা পর্যায়ের গান নিয়ে আলোচনা করে বুঝবার চেষ্টা করবো কিভাবে এই গান গুলি আমাদের আধ্যাত্মিক পথের সিঁড়ি হিসাবে কাজ করে :- ( পূজা পর্যায় গান - ১ ) “আমার মাথা নত করে দাও হে তোমার চরণ ধুলার তলে । সকল অহঙ্কার হে আমার ডুবাও চোখের জলে ॥ নিজেরে করিতে গৌরব দান নিজেরে কেবলই করি অপমান, আপনারে শুধু ঘেরিয়া ঘেরিয়া ঘুরে মরি পলে পলে । সকল অহঙ্কার হে আমার ডুবাও চোখের জলে ॥ আমারে না যেন করি প্রচার আমার আপন কাজে, তোমারি ইচ্ছা করো হে পূর্ণ আমার জীবন মাঝে । যাচি হে তোমার চরম শান্তি পরানে তোমার পরম কান্তি - আমারে আড়াল করিয়া দাঁড়াও হৃদয় পদ্মদলে । সকল অহঙ্কার হে আমার ডুবাও চোখের জলে ॥ ” রবীন্দ্রনাথের পূজা পর্যায়ের এটি একটি বহুল প্রচলিত ও অতি জনপ্রিয় গান । আধ্যাত্মিক চেতনা সম্পন্ন সমস্ত রাবিন্দ্রীক শ্রোতা মাত্রই গানটি শুনে থাকবেন । গানটির অর্থও অতি সহজবোধ্য । এই গানটি কি ভাবে আমাদের আধ্যাত্মিক সাধন পথের সহায়ক সেটাই আমাদের আলোচ্য বিষয় । গানের প্রথম লাইন দুটি দিয়ে আমরা সাধারণভাবে বুঝি যে আমরা যেন আমাদের সকল প্রকার অহংকারকে দূর করে দিয়ে বিশ্বপিতার কাছে নিজেকে সমর্পন করি । আমরা সাধারণত পূজার আসনে বসে জপ-ধ্যানের পর ঈশ্বরকে প্রণাম করি । এটাই কায়িক পূজা । কিন্তু যখন আমরা কোনও সাংসারিক কাজে ব্যস্ত অথবা কোনও হীন চিন্তায় মগ্ন তখন যদি এই গানের লাইন গুলি কানে ভেসে আসে তবে সেই মূহুর্তের জন্য মনটা আপনা থেকেই একটা ভক্তিপূর্ণ পরিমন্ডল এর মধ্যে চলে যায় । অর্থাৎ কায়িক ভাবে আমরা সাধন পরিমন্ডলের মধ্য না থেকেও মানসিক ভাবে আমরা ঈশ্বরের কাছে ক্ষনকালের জন্য হলেও নিজেকে সমর্পণ করি । এই অর্থেই এই গানগুলিকে যথার্থ ভাবেই 'পূজা পর্যায়ের' গান বলে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়েছে। গানের প্রতিটি লাইনের অর্থ করে বোঝানোর ধৃষ্টতা আমার নেই । শুধু এইটুকুই বলতে পারি, জীবনের পথে চলতে চলতে যখন আমরা কখনও কখনও মোহে অন্ধ হয়ে যাই, অহংকারের বশে দুর্বিনিত হয়ে কাউকে বিনা কারণে অপমান করিতেও দ্বিধা করি না - সেই মূহুর্তে এই গানটি পূজার মন্ত্রের মতোই আমাদের মনকে আধ্যাত্মিক চেতনায় আবিষ্ট করে পরিশুদ্ধতা দান করে ।