মূল পাতায় যান
খোলা বইয়ে ফিরুন

প্রবন্ধ

রবীন্দ্রকাব্যে আধ্যাত্মিকতা পর্ব ১২

Shyamal Samanta

-: রবীন্দ্রকাব্যে আধ্যাত্মিকতা :- (ধারাবাহিক ) ( পর্ব - ১২ ) ( লেখায় - শ্যামল সামন্ত ) পূজা পর্যায় - (গান সংখ্যা - ২ ) "সংসার যবে মন কেড়ে লয়, জাগে না যখন প্রাণ , তখনো, হে নাথ, প্রণমি তোমায় গাহি বসে তব গান । অন্তরযামী, ক্ষম সে আমার শূন্য মনের বৃথা উপহার - পুষ্পবিহীন পূজা আয়োজন, ভক্তিবিহীন তান ।। ডাকি তব নাম শুষ্ক কন্ঠে, আশাকরি প্রাণপণে - নিবিড় প্রেমের সরস বরষা যদি নেমে আসে মনে । সহসা একদা আপনা হইতে ভরি দিবে তুমি তোমার অমৃতে, এই ভরসায় করি পদতলে শূন্য হৃদয় দান ।। ” এই গানটি ও একটি অতি পরিচিত পূজা পর্যায়ের গান । বহুল প্রচলিত না হলেও রাবিন্দ্রীক প্রেমীদের ক্ষেত্রে অবশ্যই বহুল প্রচলিত এবং সমান জনপ্রিয় গান । সাংসারিক জীবনের ব্যস্ততায় মোহ বা বাসনার আকর্ষনে যখন আমাদের আধ্যাত্মিক চেতনার জাগরণ ঘটেনা, তখনো আমরা ঈশ্বরের গুনগান বা পূজা করবো । হয়তো বা সে পূজা যথার্থ আয়োজন বিহীন, ভক্তিশূন্য হবে, তথাপি আমরা প্রাণপনে তাঁকে ডাকবো এই আশা নিয়ে যদি তিনি আমাদের দীনতাকে ক্ষমা করে তার অফুরন্ত প্রেমের বারিধারায় আমাদের ভক্তিশূন্য মনকে সিক্ত করে হঠাৎ প্রেমে পরিপূর্ণ করে দেন । এটাই গানটির যথাযত মূল অর্থ । রবীন্দ্রনাথের প্রতিটি গানের মধ্যে যে একটা অফুরন্ত ঈশ্বর-প্রেমের আকুতি আছে সেটাই আমাদের মনকে বেশী করে নাড়া দেয় । “ ক্ষম সে আমার শূন্য মনের বৃথা উপহার “ এই কথা গুলির মধ্যে সেই প্রবল আকুতির অনুভূতি আমাদের শ্রোতাদের বুঝতে কোন অসুবিধা হওয়ার কথা নয় । তথাপি কেবলমাত্র একটি গানের আক্ষরিক অর্থের ভিত্তিতে কোনও গানকে শুনলে - আধ্যাত্মিক রসবোধের যে বহিপ্রকাশ এবং তাহার মধ্য দিয়ে যে মানসিক আনন্দ সেটা পাওয়া যাবে না । আমরা অনেকে এক একটি গান পর পর ২-৩ বার শুনি, বা বার বার শুনতে ভালোবাসি কারণ, কারো সুরটা ভালো লাগে, কারো কারো গানের মধ্যে যে চটুল বাক্য-বিন্যাস থাকে সে গুলো ভালো লাগে, কারো বা গানের music টা ভালো লাগে । কিন্তু এমন কিছু শ্রোতা আছে যারা গানের সুর, লয়, তালের সঙ্গে সঙ্গে গানের যে বিষয় বস্তু সেটাকেও কল্পনায় মনের আঙিনাতে বেঁধে ফেলে এবং সব কিছু ভুলে তার মধ্যে মগ্ন হয়ে যায়, এটাই হোল সাময়িক চিন্তার মধ্যে ধ্যানের অনুভূতি । এই অনুভূতির লোভেই কিছু শ্রোতা তাদের কিছু পছন্দের গান বার বার শোনে । আমরা চেষ্টা করলে রবীন্দ্রনাথের সমস্ত পূজা পর্যায়ের গানের মধ্য থেকেই এই অনুভূতি লাভ করিতে পারি। ক্রমশ :

Facebook-এ প্রকাশ · ৩১ মে, ২০২২2022-05-31